বার্তা ডেস্ক।। মৌলভীবাজার জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা হলো কুলাউড়া। এই উপজেলার পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসাস্থল হলো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট থাকার কারণে কোনমতে জোড়াতালি দিয়ে চলছে সেবাকাজ। হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের কারণে সাধারণ রোগীদেরকে সেবা পেতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক সময় বিরক্ত হয়েছে কেউ কেউ ফিরে যান।
হাসপাতালের একমাত্র শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. আবু বকর নাসের রাশু হাসপাতালে কর্মরত থাকলেও তিনি সপ্তাহে দু’একদিন হাসপাতালে গিয়ে শুধু হাজিরা দিয়ে চলে যান। তার অনুপস্থিতিতে শিশু রোগীরা উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে হাসপাতালে আসা শিশু রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জাকির হোসেন তার কক্ষে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। যে কয়জন মেডিকেল অফিসার প্রতিদিন রাতে ডিউটি করেন তারা আবার পরের দিন হাসপাতালে বহির্বিভাগে সাধারণ রোগীও দেখছেন। মেডিকেল অফিসার পর্যাপ্ত না থাকায় সেকমো, ব্রাদার ও ফার্মাসিস্ট দিয়ে রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হাসপাতালে না থেকে প্রেষণে অন্যত্র থাকায় উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। মেডিকেল অফিসাররা রোগীদের জেলা কিংবা বিভাগীয় শহরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে রোগী ও স্বজনদের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে মঞ্জুরীকৃত ২১ চিকিৎসক পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ২ জন। বাকি ১৯টি পদ শূন্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিসৎসক ১০ জনের মধ্যে ৭ জনই প্রেষণে অন্যত্র রয়েছেন। হাসপাতালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জাকির হোসেন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সারমিন ফারহানা জেরিন ও মেডিকেল অফিসার ডা. মোহনা আক্তার দায়িত্বরত রয়েছেন। কনসালটেন্ট ৬ জনের মধ্যে ৩ জন কুলাউড়ায় কর্মরত আছেন। প্রেষণে থাকা কনসালটেন্টদের মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী) ডা. মো. সাদেকুল আলম ও জুনিয়র কনসালটেন্ট অর্থোপেডিক্স (সার্জারী) ডা. মোহাম্মদ মাসউদুর রহমান প্রায় আট মাস ধরে প্রেষণে নিজেদের স্বার্থের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে কর্মরত আছেন। চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ইকবাল বাহার সপ্তাহে রবি ও বৃহস্পতিবার দায়িত্ব পালন করছেন কুলাউড়ায় আর বাকি ৪ দিন সিলেট শামছুদ্দিন হাসপাতালে। শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আবু বকর নাসের রাশু হাসপাতালে কর্মরত থাকলেও তিনি হাসপাতালে গিয়ে শুধু হাজিরা দিয়ে চলে আসেন।
এদিকে, গাইনী চিকিৎসক না থাকায় জুনিয়র কনসালটেন্ট (এনেস্থিসিয়া) ডা. আমিনুল ইসলাম দুই বছর ধরে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজী) ডা. মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ সপ্তাহে দুই-তিন রোগী দেখছেন। এছাড়া হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), গাইনী, চক্ষু, আরএমও, দুইজন মেডিকেল অফিসার, এমও আয়ূর্বেদিক পদ শূন্য রয়েছে। দ্রæত গতিতে চিকিৎসক সংকট ও সমস্যা সমাধানের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রেষণ আদেশ বাতিল ও নতুন চিকিৎসক নিয়োগের দাবী জানান ভুক্তভোগীসহ কুলাউড়ার সচেতনমহল।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন, চিকিৎসক সংকটে থাকলেও ভর্তি রোগী ও আগত রোগীদের আন্তরিকভাবে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। পর্যাপ্ত চিকিৎসক পদায়ন করলে রোগীদের আরো বেশি সেবা দেয়া সম্ভব হবে।
https://websites.co.in/refer/168184
মৌলভীবাজার জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, কুলাউড়াসহ ৭ উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আর প্রেষণে থাকা চিকিৎসকদের বিষয়ে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকে অবগত করা হয়েছে, তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
দৈনিক ইনাতগঞ্জ বার্তা / ইকবাল
Leave a Reply