বার্তা ডেস্ক।। নিত্যপণ্যের দাম কমানো এবং দ্রুততম সময়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে ফেব্রুয়ারি থেকে মাঠে নামবে বিএনপি। গত সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পদত্যাগ ও ‘অপশাসন-নির্যাতনের প্রতিবাদে’ আগামী ১৬ই ফেব্রুয়ারি ও ১৮ই ফেব্রুয়ারি হরতালের ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার রাতে দলটির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
বিএনপির কর্মসুচি
অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে সংসদ নির্বাচনের দাবিতে কোনো রাজনৈতিক দলের রাজপথে নামার এটিই প্রথম কর্মসূচি। প্রায় ১৮ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি সারা দেশে দুই দফার এই কর্মসূচি পালন করবে। দলটি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন দাবি করেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সে বিষয়ে এখনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। নির্বাচন নিয়ে এই অনিশ্চয়তার কারণে গত ২৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোটের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকতে দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।
প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে দ্রুত নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপে রাখতে বিএনপি এই কর্মসূচি পালন করবে। দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠান ছাড়াও পণ্যের দাম কমানোর দাবিতেও রমজানের আগে ঢাকাসহ সারা দেশে সমাবেশ করবে বিএনপি। শিগগিরই বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে করে কর্মসূচির সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ ৬ মাস পূর্তির মাথায় এই প্রথম কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামতে যাচ্ছে বিএনপি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় একটি জাতীয় দৈনিককে বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি চলমান রয়েছে। শীতবস্ত্র বিতরণ, আন্দোলনে আহতদের পুনর্বাসন এবং মহানগর থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ে রাষ্ট্র মেরামতে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব ইস্যুতে আমরা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছি। গত ১৬ বছর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের জন্য আমরা আন্দোলন করেছি। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারের পতন হয়েছে। কিন্তু জনগণ গণতন্ত্র এখনো ফিরে পায়নি। অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে পারলে এই সরকার কেন আগামী ৬ মাসের মধ্যে পারবে না? সরকারের ইচ্ছা থাকলে জুলাই-আগস্টের মধ্যে নির্বাচন দেওয়া সম্ভব।’
সূত্র আরও জানায়, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ছাত্ররা বিএনপির কাছে ওই ঘোষণাপত্রের যে খসড়া পাঠিয়েছে, সেটা নিয়ে বিএনপি নেতারা আলোচনা করেছেন। সেখানে কী ধরনের পরিমার্জন, পরিবর্ধন আনা যায়, সেগুলো নিয়ে দলের ভেতরে কাজ চলছে। এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন নিয়ে বিএনপির প্রশ্ন রয়েছে। তবে ছাত্রদের এই উদ্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যানও করতে চায় না দলটি। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এই ঘোষণাপত্রের কোথায় পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া যায়, সেটা তারা করবে। খসড়া ঘোষণাপত্র নিয়ে ছাত্রদের পক্ষ থেকে বাহাত্তরের সংবিধানের মূলনীতি বাতিলের ব্যাপারে যে কথা বলা হচ্ছে, সেটি যুক্তিসংগত নয় বলে মনে করছেন বিএনপির নেতারা।
আওয়ামী লীগের কর্মসুচি
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পদত্যাগ ও ‘অপশাসন-নির্যাতনের প্রতিবাদে আগামী ১৬ই ফেব্রুয়ারি ও ১৮ই ফেব্রুয়ারি হরতালের ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
মঙ্গলবার রাতে দলটির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
এতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের পদত্যাগের দাবিতে এবং হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়নে পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকেই মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী পহেলা ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে ৫ই ফেব্রুয়ারি বুধবার পর্যন্ত দাবির লিফলেট বা প্রচারপত্র বিলি করবে দলটি।
ছয়ই ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার দেশে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ১০ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। আর ১৬ই ফেব্রুয়ারি রোববার অবরোধ এবং ১৮ই ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক ‘কঠোর’ হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ অন্যান্য মামলা প্রত্যাহার এবং ‘প্রহসনমূলক বিচার’ বন্ধেরও দাবি জানানো হয়।
এই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শেখ হাসিনাকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ক্ষমতাচ্যুত দলটি।
ক্ষমতাচ্যুত এই দলের পক্ষ থেকে এর আগে গত ১০ই নভেম্বর রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়েও নামতে পারেনি আওয়ামী লীগ। এমন অবস্থার মধ্যেই হরতাল, অবরোধ, সমাবেশ ও বিক্ষোভের ডাক দিলো আওয়ামী লীগ।
দৈনিক ইনাতগঞ্জ বার্তা / ইকবাল
Leave a Reply