1. admin@inathganjbarta.com : inathganjbarta :
  2. iqbalpress02@gmail.com : ইকবাল তালুকদার : ইকবাল তালুকদার তালুকদার
  3. manna820@gmail.com : আলী জাবেদ মান্না। : আলী জাবেদ মান্না।
  4. masudsikdar26@gmail.com : Masud Sikdar : Masud Sikdar
শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন

জৈন্তাপুর লাল শাপলা বিল পরিযায়ী পাখিদের কলকাকলীতে মুখরিত

  • আপডেটের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ৩০ ভিউ

বার্তা ডেস্ক।। চলছে এখন পর্যটনের ভরা মৌসুম। আর মাত্র মাস দেড়েকের মধ্য শেষ হয়ে যাবে পর্যটনের পিক টাইম। এদিকে পর্যটনের মৌসুমে সিলেট জেলার সকল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর স্পটে নিয়মিত দর্শনার্থীদের ভীড় লেগে থাকছে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় গেলো নভেম্বর মাস হতে জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ডিবিরহাওড় এলাকার বিশাল এলাকা জুড়ে লাল শাপলা বিলে গেলো কয়েক বছরের মত পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভীড় লেগে থাকে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দুই দিনে দর্শনার্থীদের আগমন থাকে তুলনামূলক অনেক বেশী।

 

ডিবির হাওড় এলাকায় কেন্দ্রীবিল,ডিবিবিল,ইয়ামবিল ও হরফকাটা বিলের বিশাল এই অংশে লাল শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করেন আগত দর্শনার্থীরা। এর পাশাপাশি জৈন্তা রাজ্যের সাবেক শাসক রাজা বিজয় সিংহের সমাধী পুরাকীর্তি নিদর্শন পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণের একটি স্পট।

 

সবকিছু ছাপিয়ে বাড়তি আরো এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যোগ হয়েছে সম্প্রতি সময়ে বিলে প্রচুর পরিমানে পরিযায়ী পাখির বিচরণ ও কলকাকলীতে। সাধারণত নভেম্বরে লাল শাপলা বিলের মূল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ হলেও মৌসুমের মাঝামাঝি সময়টা অর্থাৎ বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখিদের আসা শুরু হয় ডিবিরহাওড় লাল শাপলা বিল এলাকায়।

 

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শাপলাবিলের মুল এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকটি চরে বিভিন্ন প্রকারের পরিযায়ী পাখি দলবেঁধে বিচরণ করছে। এদের মধ্য অন্যতম শামুকখোল, সাদা বক,ডাহুক,পিপি,জলময়ুর,

 

সরালী,বালিহাঁস অন্যতম। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী বিচরণ বালিহাঁসের। বিলের মাঝামাঝি জেগে থাকা চরের সবুজ ঘাস কিংবা কচুরিপানার নিকটে দলবেঁধে কয়েকশ বালিহাঁস অবস্থান করে। হঠাৎ করে কোন নৌকা কাছে ঘেঁষতেই দলবেঁধে উড়ে যায়। এ সময় দলবদ্ধ উড়ে যাওয়ার দৃশ্যটা দর্শনার্থীদের নিকট খুবই জনপ্রিয়।

 

এ ছাড়া সাদা কালো রংয়ের চিকনগলার শামুকখোল বা শামুকহুজা পাখি কোথাও একা কিংবা তিন থেকে সাতটির দলে বিভক্ত হয়ে অবস্থান করতে দেখা যায়। হঠাৎ হঠাৎ শামুকখোলের বিশেষ এক ডাক পুরো বিল এলাকায় পরিযায়ী পাখির অবস্থান জানান দেয়। এর পাশাপাশি এককভাবে সাদাবক কিংবা বাদামী রংয়ের ডাহুক মাছ স্বীকারের জন্য শাপলা পাতার উপর চুপি চুপি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা মিলবে।

 

রাজধানী ঢাকার খিলক্ষেত মধ্যপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী মাকসুদ করিম হীরা পরিবার নিয়ে শাপলা বিল বেঁড়াতে এসে মুগ্ধতার সহিত জানান। তিনি ২০২০ সালের লকডাউন শিথিলের পর প্রথমবার লাল শাপলা বিলে এসেছিলেন। সে সময় এখানে তেমন পরিযায়ী পাখির আনাগোনা দেখতে পান নি। বর্তমান আবার বেঁড়াতে এসে বিপুল সংখ্যক পাখি দেখে তিনি ও তার পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নৌকা যোগে যখন বিলের বিচরণ করছিলেন তখন লাল শাপলার পাশাপাশি পাখিদের বিচরণ ও কলকাকলী খুব উপভোগ করেছেন।

 

এ বিষয়ে লাল শাপলা বিল সুরক্ষা কমিটির সভাপতি সাইফুল আহমেদ বলেন, মৌসুমের শেষের দিকে বিলে প্রচুর পরিমানে পরিযায়ী পাখি দলবেঁধে আসে। এ সময় লাল শাপলা বিলের একটা বাড়তি সৌন্দর্য পর্যটক ও দর্শনার্থীরা উপভোগ করতে পারেন। তিনি বলেন সুরক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে পাখিদের অবাধ বিচরণ নিশ্চিত ও কোন অসাধু শিকারী যাতে ফাঁদ পেতে শিকার করতে না পারে সে বিষয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও মনিটরিং করা হচ্ছে। তাছাড়া নৌকা যোগে পর্যটক ও দর্শনার্থীরা যাতে উচ্চস্বরে গান কিংবা ঢিল ছুঁড়ে পাখিদের বিরক্ত না করে সে বিষয়ের প্রচারণা চালানো হয়ে থাকে। তিনি আরো বলেন, পাখিরা যে যে চরে অবস্থান করে, সেখানে যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত না হয় সেজন্য মাঝিদের নির্দেশনা দেয়া আছে।

 

জৈন্তাপুর ইমরান আহমেদ সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক খাইরুল ইসলাম বলেন, স্হানীয় মুরুব্বিদের মুখে শুনেছি রাজা বিজয় সিংহের সমাধীর আশপাশে রাজার যুগ থেকেই শামুকখোল বা শামুকহুজা পাখির সেই সময়কাল থেকেই বিচরণ হতো। ২০১৩ সালে শাপলাবিলকে সাধারণ মানুষের নিকট প্রচার প্রচারণা চালানোর সময় একবার লক্ষ্য করেন কিছু অসাধু শিকারী ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করে। ওইদিন তিনি সহ স্হানীয় সাংবাদিক রেজওয়ান করিম সাব্বির সহ কয়েকজন প্রকৃতি প্রেমিক মিলে প্রায় দেড়শোটি ফাঁদ তারা ধ্বংস করেন।

 

এরপর থেকে সচেতন মহল শাপলা ফুলের পাশাপাশি পাখিদের রক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টি করে আসছে। তিনি বলেন বিগত পাঁচ বছর ধরে পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা কিছুটা কমে গেলেও ২০২৩ সাল থেকে বাড়তে শুরু করেছে। এভাবে পাখির আগমন বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী ৩/৪ বছরে ডিবির হাওড় এলাকা লাল শাপলার পাশাপাশি পরিযায়ী পাখির জন্য পর্যটক ও দর্শনার্থীদের নিকট নতুন করে পরিচিতি লাভ করবে। এ জন্য পরিযায়ী পাখিদের বাসস্থানের সুরক্ষা নিশ্চিতে বিলের চর গুলোতে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের দূরুত্ব বজায় সহ যে কোন প্রকারের গবাদি পশুর বিচরণ সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ করার দাবী জানান তিনি।

 

সুত্রঃ দৈনিক জৈন্তা বার্তা / ইকবাল

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা অথবা ভিডিও কপি করা সম্পূর্ণ বেআইনি @2025
Desing & Developed BY ThemeNeed.com