২০২৪ সালে টানা তৃতীয় বছরের মতো হ্রাস পেয়েছে চীনের জনসংখ্যা। জন্মহার সামান্য বাড়লেও মৃত্যুহার তার তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী সময়গুলোতে জনসংখ্যা হ্রাসের প্রবণতা আরও তীব্র হতে পারে। এ খবর দিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ অনলাইন।
এতে বলা হয়, জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, ২০২৪ সালে চীনের মোট জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে ১ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন কমে ১ দশমিক ৪০৮ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। সে বছর জনসংখ্যা ছিল ১ দশমিক ৪০৯ বিলিয়ন।
শুক্রবার যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে জনসংখ্যা হ্রাসের খবরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে-তাদের শ্রমিক এবং ভোক্তাদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। এছাড়া বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়বে কিন্তু তাদের যত্ন নেয়ার মতো মানুষের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে অবসরকালীন ভাতার ব্যয় ক্রমবর্ধমান হারে বাড়তে থাকায় স্থানীয় সরকারগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে বলেও সতর্ক করেছে বিশ্লেষকরা।
পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, গত বছর চীনে মোট জন্মের হার ছিল ৯ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন। যেখানে ২০২৩ সালে ছিল ৯ দশমিক ০২ মিলিয়ন। জন্মহার বেড়ে ২০২৪ সালে প্রতি এক হাজার জনে ৬ দশমিক ৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে। যেখানে ২০২৩ সালে ছিল ৬ দশমিক ৩৯ জন। ২০২৩ সালে চীনে ১ কোটি ১১ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত বছর মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৯৩ লাখ।
১৯৮০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত চীনের এক সন্তান নীতির পাশাপাশি দ্রুত নগরায়ণের ফলে দেশটির জন্মহার দশকের পর দশক ধরে হ্রাস পেয়েছে। জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো চীনের বিশাল সংখ্যক মানুষ গ্রামীণ কৃষি এলাকা থেকে শহরে চলে এসেছে, যেখানে সন্তান নেয়া অনেক ব্যয়বহুল।
২০২৩ সালে বিবাহের সংখ্যা ১২.৪% বৃদ্ধি পেয়েছিল—যার অনেকটাই কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বিলম্বিত ছিল—ফলে ২০২৪ সালে সাময়িকভাবে জন্মহার পুনরুদ্ধার হয়েছিল, এমনটাই বলছেন জনসংখ্যাবিদরা।
তবে এই সংখ্যা ২০২৫ সালে আবারও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিশু লালন-পালন, শিক্ষার উচ্চ ব্যয়, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং ধীরগতির অর্থনীতি অনেক তরুণ চীনা নাগরিককে বিয়ে এবং পরিবার গঠনে নিরুৎসাহিত করেছে বলে ধারণা গবেষকদের।
জনসংখ্যাবিদরা বলছেন, লিঙ্গ বৈষম্য এবং নারীদের গৃহস্থালি কাজের ঐতিহ্যবাহী প্রত্যাশা ওই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সুত্রঃ মানবজমিন / ইকবাল
Leave a Reply