1. admin@inathganjbarta.com : inathganjbarta :
  2. iqbalpress02@gmail.com : ইকবাল তালুকদার : ইকবাল তালুকদার তালুকদার
  3. manna820@gmail.com : আলী জাবেদ মান্না। : আলী জাবেদ মান্না।
  4. masudsikdar26@gmail.com : Masud Sikdar : Masud Sikdar
শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন

ইবাদতে মুখরিত হোক মাহে রমজান

  • আপডেটের সময়: শনিবার, ৮ মার্চ, ২০২৫
  • ২৪ ভিউ

মাসুদ শিকদারঃ পবিত্র মাহে রমজান আমাদের দোরগোড়ায় উপস্থিত। এ মাসে আসমান থেকে বর্ষিত হতে থাকে রহমত, বরকত ও নাজাতের বারিধারা। তাই এ মাসকে বলা হয় ইবাদতের ভরা বসন্ত। বসন্তের আগমনের আগেই যেমন প্রকৃতি নতুন সাজে সজ্জিত হতে থাকে, তেমনি মুমিনও রমজানের আগমন মুহূর্তে নিজেকে প্রস্তুত করে। রমজান আগমনের পূর্বমুহূর্তে রাসুল (সা.) রমজানের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিতেন। সাহাবিদের নিয়ে মজলিশ করতেন। রমজানের গুরুত্ব, মাহাত্ম্য, করণীয় ও বর্জনীয় বোঝাতেন। রমজান যেহেতু মুসলমানদের জন্য এক আলোকবর্তিকা নিয়ে হাজির হয়, তাই সবার কর্তব্য রমজানের যথাযথ গুরুত্ব অনুধাবন করা। নিজের জীবনকে আমলের মাধ্যমে সুন্দর ও সমৃদ্ধি করা। যাপিত জীবনের সব পাপ-পঙ্কিলতা ধুয়েমুছে আল্লাহর প্রিয় পায় হওয়ার চেষ্টা করা। আল্লাহতায়ালা এ মাসকে হেদায়াতের মাস বানিয়েছেন। রহমতের মাস উল্লেখ করেছেন। রমজান মাস যেহেতু আমলের মাস, তাই এ মাসের মুখ্য বিষয় হওয়া দরকার। আমল। কীভাবে আমলের পাল্লা ভারী হবে, পরকালে নাজাত পাওয়া যাবে-সেই প্রচেষ্টায় রমজানকে অতিবাহিত করাই হবে একজন মুমিনের আসল কাজ। রমজানের শুরুতেই একটা খসড়া তৈরি করা যেতে পারে- কোন আমল কখন করবেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ঠিকমতো জামাতের সঙ্গে আদায় করার পাশাপাশি কয় খতম কোরআন তিলাওয়াত করবেন, কত হাজার কালেমা, জিকির-আজকার করবেন তার একটা তালিকা করা। বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করা। যারা কোরআন তিলাওয়াত জানেন না অথবা শুদ্ধ করে তিলাওয়াত করতে পারেন না, তারা এ রমজানে কোরআন শেখার কাজটা শেষ করতে পারেন। প্রতিদিন তারাবি নামাজ ঠিকমতো আদায় করা। নফল নামাজ পড়ার জন্য দৈনন্দিন

 

একটা টার্গেট ঠিক করা।

 

রাতের শেষ ভাগে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বিশেষভাবে দোয়া কবুল করেন। এ সময় গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে তাহাজ্জুদের নামাজ। প্রতিদিন যদি তাহাজ্জুদের সালাত চালিয়ে যেতে পারি তাহলে রোজার মাসে সেহরির জন্য জেগে ওঠার জন্য ইনশাআল্লাহ কোনো যন্ত্রের ওপর নির্ভর করতে হবে না। আর তাহাজ্জুদ হচ্ছে এমন একমুহূর্ত, যখন দোয়া কবুলের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘মহান আল্লাহ প্রতি রাতের শেষ প্রহরে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন। তিনি তখন বলেন, আছো কি কোনো আহ্বানকারী, আমি তোমার ডাকে সাড়া দেব। কোনো প্রার্থনাকারী কি আছো, আমি তোমাকে যা চাও তা দেব। কেউ কি ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব।’ (মুসলিম: ৭৫৮)। আর তাহাজ্জুদ আদায়ের ফলে ফজর কাজা হওয়ার সুযোগ অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়, যদি আমরা তাহাজ্জুদ আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাসকে ত্যাগ করতে পারি। রমজানে অনর্থক কথাবার্তা না বলে আল্লাহর জিকিরে কাটানো উচিত। জিকির বা আল্লাহর স্মরণ মানুষের মনকে তৃপ্ত রাখে। প্রতিমুহূর্তে আল্লাহকে স্মরণ করা চাই, যাকে আরবিতে জিকির বলে। পবিত্র কোরআন মাজিদে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো।’ (সুরা আহজাব: ৪১)। তা ছাড়া নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার রবের জিকির (স্মরণ) করে আর যে ব্যক্তি তার রবের জিকির করে না, তারা যেন জীবিত আর মৃত।’ (বোখারি: ৬৪০৭; মুসলিম: ৭৭৯)। তাই সকাল-সন্ধ্যায় জিকিরের পাশাপাশি নিজে থেকে সময় হলেই অতিরিক্ত কিছু জিকির আমরা মুখে সর্বদা জারি রাখতে পারি। ইসলামের দৃষ্টিতে জিকিরের ফজিলত অনেক। কাজের ফাঁকে ফাঁকে

 

ইস্তেগফার পাঠ করা, যখন-তখন সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার এবং কালেমার জিকির পাঠ বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। এতে রমজানের সময় অবসর সময়ে অহেতুক কাজকর্ম থেকে মন ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ। রমজানে আমরা বেশি বেশি দান করার নিয়ত করতে পারি। এখন থেকেই রমজান মাসে বেশি বেশি সদকার পরিকল্পনা করে নেওয়া উচিত। যেহেতু এ অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে মধ্যবিত্ত মানুষের পরিমাণ বেশি, তাই এখন থেকেই অল্প অল্প করে কিছু টাকা রমজান মাসে সদকা করার উদ্দেশ্যে জমিয়ে রাখলে ভালো হবে। কেউ চাইলে এখন থেকে সদকার অভ্যাস শুরু করে দিতে পারে। এতে ইনশাআল্লাহ অন্তরের কার্পণ্যবোধ কেটে যাবে। কোরআন মাজিদে ইরশাদ হচ্ছে, ‘যারা

 

আল্লাহর প্রতি ইমান আনে ও সৎকাজ করে এবং নামাজ প্রতিষ্ঠিত করে ও জাকাত দেয়, তারা আল্লাহর কাছ থেকে পুরষ্কার পাবে। ভবিষ্যতের জন্য তাদের কোনো আশঙ্কা নেই এবং (অতীতের জন্যও) তারা দুঃখিত বা অনুতপ্ত হবে না।’ (সুরা বাকারা: ২৭৭)। সদকা অসহায় মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি ঘটায়। আর অসহায় মানুষদের সঙ্গে মেলামেশা করার ফলে অহেতুক অহংকার করার অভ্যাস ঠিক হয়ে যাবে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের নিত্যদিনের প্রয়োজনের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। চাইলেও এটাকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সম্ভব হয় না। তবে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি এবং যথাসম্ভব দূরত্ব বজায় রাখতে পারি। কারণ ইবাদতের প্রতি অনীহা সৃষ্টিতে এ সামাজিক

 

যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। অহেতুক যেসব সাইডে আমরা অ্যাড আছি সেগুলোকে এখনই আনফলো এবং ব্লক করে দিতে হবে, অশ্লীলতা হুড়ায় এমন সাইডগুলো থেকে যতটা দ্রুত সম্ভব সরে আসতে হবে। কারণ পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা অশ্লীলতার কাছেও যেও না। নিশ্চয়ই এটি প্রকাশ্য অশ্লীলতা ও অত্যন্ত মন্দ পথ।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ৩২)। সেলফ রিমাইন্ডারের জন্য কিছু ভালো ভালো সাইডে সংযুক্ত থাকা যেতে পারে, তাও যতটা সম্ভব কমিয়ে আনতে হবে। ঘরোয়া কাজেও সহযোগিতা করা দরকার। পরিবারের কাজে সবার সমান অংশগ্রহণ থাকা ভালো। ঘরোয়া কাজে সহযোগিতা করা নবীজির (সা.) সুন্নত। এটা যেমন অলসতা দূর করে, তেমনি

 

পারিবারিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে। রমজান মাসে পুরো দিন না খেয়ে থাকার কারণে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই শারীরিক দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন নিজে বসে না থেকে সবার সঙ্গে হাতে হাতে কাজ করলে একে যেমন শারীরিকভাবে সবাই কম দুর্বল হবে, তেমনি সবার হাতেই বাড়তি কিছুটা সময় চলে আসবে ইবাদত করার জন্য। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) পারিবারিক কাজে অংশ নিতেন। ব্যক্তিজীবনে মহানবী (সা.) একজন সাধারণ মানুষের মতো। ছিলেন। অবসর সময়ে তিনি পারিবারিক। কাজে অংশগ্রহণ করতেন। নিজের কাজ নিজেই সেরে নিতেন। আসওয়াদ (রা.) বলেন, আমি একবার আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞসা করলাম, রাসুল (সা.) ঘরে কী কাজ করতেন? উত্তরে তিনি বললেন, ‘তিনি ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকতেন, অর্থাৎ গৃহস্থালি কাজে পরিবার-পরিজনের সহযোগিতায় থাকতেন। যখন নামাজের সময় হতো, তখন নামাজে চলে যেতেন।’ (বোখারি: ৬৭৬) এখন থেকেই অহেতুক কথা বলা থেকে নিজেদের জবানকে হেফাজত করার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারি। অহেতুক কথা মিথ্যা ও গিবতের জন্ম দেয়। গিবত মারাত্মক পাপ। আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থাক। নিশ্চয়ই কোনো কোনো অনুমান তো পাপ। আর তোমরা গোপন বিষয় অনুসন্ধান কোরো না এবং একে অন্যের গিবত কোরো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো তা অপছন্দই করে থাক। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অধিক তওবা কবুলকারী, অসীম দয়ালু।’ (সুরা হুজরাত: ১২)। রমজানের আগমন ঘটে অধিক ইবাদতের ফুলঝুড়ি নিয়ে। এই মহামূল্যবান সময় অহেতুক কথাবার্তা ও গিবত করে কাটিয়ে দেওয়া কখনো একজন বিবেকবান মানুষের কাজ নয়।

 

রমজান আসে খাবারে সংযমের বার্তা নিয়ে। খাবারের দোষ ধরার অভ্যাস এখন থেকেই ত্যাগ করতে পারি। কারণ রমজান ইবাদতের মাস ভালো ভালো খাবারের জন্য উৎসুক হয়ে পড়ে থাকার মাস নয়। সারা দিনের ক্লান্তিতে খাবারের মধ্যে সামান্য কিছু ভুল হয়ে যেতেই পারে। এ ক্ষেত্রে সংযম থাকা নবীজির (সা.) প্রিয় অভ্যাস। কারণ রাসুল (সা.) কখনো খাবারের দোষ ধরতেন না। রান্নার ক্ষেত্রে নিজের চাহিদামতো কিছু না হলে মেনে নেওয়া কিংবা দোষত্রুটি না ধরা ইসলামের শিক্ষা। কিন্তু অনেক সময় পরিবারের পুরুষরা নারীদের সামর্থ্য ও সীমাবদ্ধতার প্রতি লক্ষ রাখেন না। তাদের ইচ্ছার বিপরীত কোনো কিছু হলে রাগ-ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কখনো কখনো এসব ক্ষেত্রে মানসিকভাবে নির্যাতন করে বসেন। অথচ এমন কিছু মুমিনের কাছে কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) কখনো খাবারের দোষত্রটি ধরতেন না। তার পছন্দ হলে খেতেন আর অপছন্দ হলে রেখে দিতেন।’ (বোখারি: ৫১৯৮) ব্যক্তিগত আমলের প্রস্তুতির পাশাপাশি পারিবারিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। পারিবারিক কেনাকাটা, বাজারসদাই, আত্মীয় বাড়ি যাওয়া রমজানের আগেই সেরে ফেলা ভালো। যাতে রমজানে উটকো ঝামেলা থেকে নিজেকে রক্ষা করে নিমগ্ন হয়ে ইবাদত করা যায়। সেইসঙ্গে ঘরের সদস্যদের নিয়ে প্রতিদিন রমজানের ফাজায়েল-মাসায়েল আলোচনা করা। এতে করে সবার মধ্যে। রমজানের গুরুত্ব চলে আসবে। পরিবারের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য যেন রোজা পালন করে সেই বিষয় খেয়াল রাখা। মহান আল্লাহ সবাইকে মাহে রমজানের প্রস্তুতি সঠিকভাবে নেওয়ার তওফিক দান করুন এবং আগত রমজানকে আনন্দময় করুন।

 

লেখক: ইমাম ও খতিব

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা অথবা ভিডিও কপি করা সম্পূর্ণ বেআইনি @2025
Desing & Developed BY ThemeNeed.com