ইনাতগঞ্জ বার্তা ডেস্কঃ শুরুতেই গোল হজমের পর একের পর এক আক্রমণে আতলেতিকোকে ব্যস্ত রাখে রিয়াল। চার থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে বলতে গেলে অধিকাংশ সময় বল ছিল সিমিওনের দলের অর্ধেই। আদায় হয় কয়েকটি কর্নারও। তবে প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণের সামনে বারবার আটকে যেতে হয় ভিনিসিয়ুস-এমবাপেদের।
২০তম মিনিটে পেনাল্টির আবেদন জানিয়ে ব্যর্থ হন রিয়ালের খেলোয়াড়রা। আতলেতিকোর বক্সের ঠিক বাইরে লুটিয়ে পড়ার পর আলতো পাস বাড়িয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস, যা হাতে লাগে গুউলিয়ানো সিমিওনের। তবে রেফারি পেনাল্টির আবেদনে সাড়া দেননি।
পরের মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে হুলিয়ান আলভারেজের নেওয়া শট চলে যায় বক্সের বেশ বাইরে দিয়ে। এই সময় থেকেই কিছুটা খেই হারায় রিয়াল। আর সেটা কাজে লাগিয়ে আক্রমণ শানায় আতলেতিকো।
২৬তম মিনিটে গুউলিয়ানো বাড়ানো বল ধরে বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ের কোনাকুনি শট নেন আলভারেজ, যা ঝাঁপিয়ে ফিরিয়ে দেন কোর্তোয়া। এরপর থেকে বিরতির আগ পর্যন্ত অগোছালো ফুটবলে রক্ষণের ওপর চাপ বাড়ে রিয়ালের।
৪০তম মিনিটে রিয়ালের একজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে বল কেড়ে বক্সের ভেতর ক্রস বাড়ান দে পল, ছয় গজের ভেতরে থাকা আলভারেজের শট কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া
মিনিট তিনেক বাদে ম্যাচের ধারার বিপরীতে আন্টোনিও রুডিগারের লম্বা করে বাড়ানো বল রিয়ালের জন্য তৈরি করেছিল দারুণ সুযোগ। তবে দুই মিডফিল্ডার অহেলিয়া চুয়ামেনি ও জুড বেলিংহামের কেউই পারেননি সেটা কাজে লাগাতে।
প্রথম ৪৫ মিনিটে ম্যাচে স্পষ্ট প্রাধান্য দেখায় আতলেতিকো। গোলের জন্য সাতটি শট নিয়ে তিনটি তারা রাখে লক্ষ্যে। অন্যদিকে রিয়ালের নেওয়া মাত্র তিনটি শটের একটি ছিল লক্ষ্যে। যদিও পজেশনের দিক থেকে আনচেলত্তির দল ছিল বেশ এগিয়েই (৬২%-৩৮%)।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও একবার দূরপাল্লার শটে কোর্তোয়ার পরীক্ষা নেন আলভারেজ, তবে শটে ছিল না তেমন জোর। ম্যাচের ৫৬তম মিনিটে গিয়ে সেরা সুযোগটা পায় রিয়াল। লুকা মদ্রিচের কাছ থেকে বল নিয়ে বক্সের ডান দিক থেকে নিচু ক্রস বাড়ান রদ্রিগো, তবে ডিফেন্ডারদের বাধায় বেলিংহাম পারেননি গোলে শট নিতে।
৬৭তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে নিজেদের অর্ধ থেকে এমবাপেকে লম্বা করে পাস বাড়ান বেলিংহাম। গতি দিয়ে আতলেতিকোর তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে আতলেতিকোর বক্সে প্রবেশ করে ফেলেছিলেন ফরাসি তারকা। ক্লিমেন্ট লেংলেট ফাস্পটকিকের জন্য রিয়াল বেছে নেয় ভিনিসিয়ুসকেই। পেনাল্টি থেকে বেশ ভালো হলেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রাজিল তারকা নেন বাজে এক পেনাল্টি। পোস্টের বাইরে দিয়ে বল মেরে বসে গ্যালারিতে।
কাউন্টার এটাক থেকে এরপর বক্সের ডান দিক থেকে নেওয়া গুউলিয়ানো শট আটকান ম্যাচ জুড়ে ব্যস্ত সময় পার করা কোর্তোয়া। ৭৫তম মিনিটে রদ্রিগো বল নিয়ে আতলেতিকোর বক্সে প্রবেশ করতেই স্লাইড ট্যাকলে গুউলিয়ানো কেড়ে নেন বল। ৮২তম মিনিটে অভিজ্ঞ লেফট ব্যাক ফেরলদ মন্ডিকে তুলে নিতে বাধ্য হন আনচেলত্তি। হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পড়ে তার। তার জায়গায় নামেন এই মৌসুমে ভীষণ অনিয়মত ফ্রান গার্সিয়া।
নির্ধারিত সময়ের বাকি অংশে রিয়ালের আক্রমণ খেই হারায় মাঝপথে বারবার। আর জমাট রক্ষণ বজায় রেখে আতলেতিকো খুব একটা শানায়নি আক্রমণ।
তবে অতিরিক্ত সময়ের শুরু থেকেই চলে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ। শেষ মিনিটে ফেদেরিকো ভালভের্দের পাস বাড়ান ছয় গজে, প্রয়োজন ছিল কেবল ট্যাপ ইনের। তবে এমবাপে বা ভিনিসিয়ুস, কেউই ছিলেন না ধারেকাছেও। বিরতির ঠিক আগে ভিনিসিয়ুসের ওপর ক্ষোভ ঝাড়তে দেখা যায় বেলিংহাম ও কোচ আনচেলত্তিকে। কারণটা স্পষ্ট, পুরো ম্যাচে নিজের ছায়া হয়েই ছিলেন তিনি অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য দুই দলই মনোযোগ বেশি দেয় রক্ষণের দিকেই। টাইব্রেকারের অপেক্ষাতেই যেন ছিল দুই দল। ফলে ঢিমেতালেই শেষ হয় এই অর্ধ।উল করলে পেনাল্টি পেতে যায় রিয়াল।
Leave a Reply