সিলেটের বহুল আলোচিত-সমালোচিত নাম অ্যাডভোকেট রনজিত সরকার। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হলেও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এমপি হয়েছিলেন সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা, মধ্যনগর, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর) আসন থেকে। গত বছরের পাঁচ আগস্ট আওমী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারত হয়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান তিনি।আমলা থেকে রাজনীতিতে এসেই সুনামগঞ্জ-৪ আসন থেকে এমপি হন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক। পটপরিবর্তনের পর তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগের এই দুই নেতার শুল্কমুক্ত বিলাসবহুল গাড়ি আগামী সপ্তাহেই নিলামে তুলছে চট্টগ্রাম কাস্টমস।
আর সামাজিক মাধ্যম ও মানবিক কাজে সরব থেকে এক সময় তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়া ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন সতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সাংসদ হন হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে। দ্বাদশ সংসদের ৫০ জন এমপির মধ্যে তিনিই একমাত্র, যিনি শুল্ক–কর দিয়ে কোটি কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি খালাস করেছেন।
চট্টগ্রাম কাস্টমস বিভাগ সূত্র বলছে, দুই দফা চিঠি দেওয়ার পরও আমদানি করা অন্য গাড়িগুলো খালাস নেননি সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সাংসদ রনজিত চন্দ্র সরকার ও সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ সাদিক। তাদের গাড়ি আগামী সপ্তাহে নিলামে তুলছে চট্টগ্রাম কাস্টমস।কাস্টমসের তালিকা অনুযায়ী, নিলামে তোলা গাড়িগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দামি গাড়িটি আমদানি করেছিলেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাদিক। টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজারের মডেলের গাড়িটির আমদানি মূল্য ১ কোটি ৬ লাখ টাকা। গাড়িটির শুল্ক–কর প্রায় ৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপকমিশনার সাইদুল ইসলাম বলেন, সংসদ সদস্যের মেয়াদে শুল্কমুক্ত সুবিধায় খালাস হওয়া একেকটি গাড়িতে অগ্রিম আয়কর বাবদ ৪ লাখ ৮০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা রাজস্ব পেয়েছে সরকার। এখন প্রথম নিলামে বিক্রি করা গেলে একেকটি গাড়িতে সোয়া ৭ কোটি টাকা পাওয়া যাবে। এ হিসাবে গাড়িগুলো থেকে ১৭৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের আশা রয়েছে।
সাইদুল ইসলাম জানান, আগামী রোববার থেকে সাবেক সংসদ সদস্যদের ২৪টি গাড়ি অনলাইন নিলামে তোলা হবে। আগ্রহী দরদাতারা এসব গাড়ি সরেজমিন দেখতে পারবেন ২ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি। নিলামপ্রক্রিয়া শেষ হবে ১৬ ফেব্রুয়ারি। দেশের যেকোনো স্থান থেকে যে কেউ অনলাইনে এই নিলামে অংশ নিতে পারবেন।
কয়েকটি ছাড়া সাবেক সংসদ সদস্যদের গাড়িগুলো নতুন মডেলের। নতুন গাড়ি আমদানির অর্ডার (ঋণপত্র খোলার) দেওয়ার পরই গাড়ি নির্মাণ শুরু করেছিল জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা। ন্যূনতম তিন থেকে চার মাসে এসব গাড়ি তৈরি করা হয়। অর্থাৎ নিজেদের পছন্দমতো মডেলের গাড়ি আনার পর এখন তা হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।
Leave a Reply