হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জে চুরির অপবাদে নাইম ইসলাম (১২) নামে এক শিশুকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৮ মার্চ) সকালে এতিমখানার পার্শ্ববর্তী নির্মাণাধীন ভবনে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতিত শিশু নাইম ইসলাম শহরের রাজনগর ইসলামিয়া এতিমখানার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এদিকে এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ধামাচাপা চেষ্টা করেন একদল প্রভাবশালী লোক। পরে রাত ৮টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা নির্যাতনকারী নুরুল হককে (৬০) আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা জানান, তাদেরকে বলা হয়েছে এ বিষয়ে কারো সঙ্গে কোনো কথা না বলার জন্য। কথা বললে এতিমখানা থেকে বের করে দেওয়া হবে।
জানা যায়, শিশু নাইম ইসলাম সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এতিমখানার পার্শ্ববর্তী নির্মাণাধীন ভবনে ঘুড়ি উড়াতে যায়। এ সময় ভবনের শ্রমিকরা তাকে চোর অপবাদ দিয়ে রশি দিয়ে খুঁটিতে বেঁধে ফেলে। খবর পেয়ে ভবনের মালিক ও এতিমখানার সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক ঘটনাস্থলে এসে নাইমকে কাঠ দিয়ে মারপিট করেন। পরে তার সঙ্গে যুক্ত হন এলাকার চিহিৃত দাদন ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন। দুজনে মিলে নাইমকে বেধড়ক মারপিট করেন। খবর পেয়ে এতিমখানার শিক্ষক মো. আব্দুল করিম তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান।
এদিকে এতিম শিশুকে নির্যাতন করায় এলাকার সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা ফুসে উঠেছেন। তারা নির্যাতনকারী নুরুল হকও জসিম উদ্দিনের শাস্তির দাবিতে ইফতারের পর এতিমখানায় জড়ো হন। এ সময় আবারও নুরুল হক এতিমখানায় আসলে তাকে জনতা আটক করে। খবর পেয়ে সদর মডেল থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
শিশু নাইম জানায়, সকালে সে কয়েকজনের সঙ্গে নতুন ভবনে ঘুড়ি উড়াতে যায়। এ সময় একটি পেন্ট নীচে পড়ে থাকতে দেখে বেল্টে ধরে টান দেয়। পরে ভবনের শ্রমিকরা তাকে চোর অপবাধ দিয়ে বেঁধে নুরুল হক ও জসিম উদ্দিন মিলে বেধড়ক মারপিট করে।
এদিকে শিক্ষক আব্দুল করিম জানান, দুপুরে আমি খবর পাই এতিমখানার এক শিক্ষার্থীকে আটক করে রাখা হয়েছে। পরে সেখানে গিয়ে নুরুল হকের হাত থেকে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। অপরদিকে শিক্ষার্থীরা জানান, নুরুল হক নিজের ভবনের জন্য এতিমখানা থেকে পানি নিয়ে যান, যার কারণে তারা প্রতিদিন গোসলের জন্য পানি পাই না। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাদেরকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হবে।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির জানান, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
Leave a Reply