জগন্নাথপুর প্রতিনিধি।। গত ১৫ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে নলুয়া হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের ৪ নম্বর প্রকল্পের সংস্কার কাজ উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের এক মাসেও মাটি পড়েনি এই বাঁধে। গতকাল (১৩ জানুয়ারি) সোমবার সরেজমিন পরিদর্শনকালে এমন চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, নিয়ম রক্ষায় নামমাত্র বাঁধের কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। গত একমাসেও মাটি ভরাটের কাজ হয়নি। শুধু প্রকল্পে মাটি খুঁড়ে রাখা হয়েছে। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, নলুয়া হাওরের পোল্ডার ১ এর আওতাধীন ৫, ৬, ৮, ৯, ১০, ১১ ও ১২ নম্বর প্রকল্পে কোন মাটি পড়েনি। ২, ৩ ও ৭ নম্বর প্রকল্পের কিছু অংশে মাটির কাজ চলছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সদস্যরা জানিয়েছেন, হাওরে মাটির তীব্র সংকট দেখা গিয়েছে। যে কারণে কাজ শুরু করতে একটু বিলম্ব হচ্ছে।
নলুয়া হাওরের ৪ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি নোমান আহমদ জুয়েল বলেন, হাওরে মাটির তীব্র সংকট। এছাড়া হাওরে মাটি নরম থাকায় মাটি কাটার মেশিন নামানো যাচ্ছে না। তবে দুই, তিন দিনের মধ্যে কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে পারব। এ প্রকল্পের ১.২ কিলোমিটার কাজের জন্য ২৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান। ৬ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি শাহাদাত মিয়া বলেন, মাটি কাটার মেশিন পেতে দেরি হয়েছে। এখন মেশিন পেয়েছি। দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। তাঁর এ প্রকল্পে ০.৯২২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৮ লাখ ৪৫ হাজার ৫শ’ ২৮ টাকা।
৩ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি আব্দুল হাসিম ডালিম বলেন, আমাদের প্রকল্পের কাজ চলমান। নিদিষ্ট সময়েই নীতিমালা অনুয়ায়ী কাজ শেষ করা হবে।
নলুয়া হাওরের স্থানীয় কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, এখনও নলুয়া হাওরের একাধিক বাঁধের কাজ শুরু হয় নি। ফলে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে হাওর। কাজ নিয়ে শঙ্কায় আছি আমরা। তিনি বলেন, এ হাওরে জগন্নাথপুর ও পার্শ্ববর্তী দিরাই উপজেলার একাংশের কয়েক হাজার কৃষক বোরো ফসল আবাদ করে আসছেন। এক ফসলি বোরোই সারাবছরের একমাত্র সম্বল। প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটলে না খেয়ে মরতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীলরা জানান, এবার এ উপজেলায় ২৪ কিলোমিটার এলাকায় ৩৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনের মাধ্যমে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ৪ নম্বর প্রকল্পের কাজ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে কাজ শুরু হয়। আগামি ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। এবার অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৮৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা।
জগন্নাথপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান উপ সহকারী প্রকৌশলী সবুজ কুমার শীল জানান, অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। তবে মাটি সংকট থাকায় মাটি ভরাটের কাজে একটু বিলম্ব হয়েছে। আমরা কাজ তদারকি করছি।
উপজেলা হাওর রক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ বলেন, মাটি সংকট থাকায় মাটি ভরাটের কাজে একটু বিলম্ব হয়েছে। আমরা কাজ তদারকি করছি।
#দৈনিক ইনাতগঞ্জ বার্তা #ইকবাল
Leave a Reply