বার্তা ডেস্ক :: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘স্বাধীনতার পক্ষে ও বিপক্ষে রয়েছে উল্লেখ করে জাতিকে আরও দুইটা ভাগ করা হলো। স্বাধীনতার যুদ্ধে যার যে ভূমিকা ছিল মানুষ এটার সাক্ষী। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে কেউ কী বলেছে আমরা দেশের স্বাধীনতা মানি না। না, এমন কোনও দল নেই।’
(৭ ফেব্রুয়ারি) শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের ইসদাইর ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাঙালি জাতিকে বিভক্ত করে রাখা হয়েছিল উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিগত ৫৪ বছর এই জাতিকে বিভক্ত করে টুকরো টুকরো করে রাখা হয়েছিল। এই কাজ সুকৌশলে আওয়ামী লীগ করেছে। তারা প্রথমে পার্বত্য এলাকার লোকজনদের উসকে দিয়েছে। এরপর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ে আর শান্তি ফিরে আসেনি। এরপর শান্তি বাহিনী নামে এক বাহিনী গঠন হলো। তাদের হাতে ১০ হাজার সামরিক কর্মকর্তা ও আমাদের সৈনিক নিহত হলো। পরে তারা নিজেরা বিভিন্ন গ্রুপের বিভক্ত হয়ে নিজেরা নিজেদের লোকজনদের খুন করলো। এই যে খুন শুরু হলো তা এখনও অব্যাহত রয়েছে।’
নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাসের রাজধানী ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জবাসী যুগ যুগ ধরে কষ্টে আছে। নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাসের রাজধানী বানিয়ে রাখা হয়েছিল। নারায়ণগঞ্জের গডফাদার খ্যাত একজন দুর্ধর্ষ লোক মহাসড়কের পাশে ৭২ ফুট লম্বা একটা ব্যানার টানিয়ে রেখেছিলেন। সেই ব্যানারে লিখেছিলেন, ওমুকের প্রবেশ নারায়ণগঞ্জে নিষিদ্ধ। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার উপস্থিতিতে তিনি বলেছিলেন, ডিসি এসপি সাহেব আমার নামে খুনের একটি অগ্রিম মামলা দায়ের করে রাখেন। আমি অধ্যাপক গোলাম আজমকে খুন করতে চাই। স্বৈরাচারী সরকারের জুলুমের শিকার হয়ে কারাগারে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু গডফাদারের সুযোগ হয়নি তাকে সরাসরি খুন করার। এই অধ্যাপক গোলাম আজমকে তিনি নারায়ণগঞ্জের মাটিতে নিষিদ্ধ করেছিলেন। যে ভাই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন তিনি আজ কোথায়? তিনি কি নারায়ণগঞ্জে আছেন? অহংকার ভালো না। ক্ষমতার জোরে ছড়ি ঘোরাতে নেই।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর সাবেক আমির মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমদ, জেলা আমির মমিনুল হক সরকার ও মহানগরী আমির মুহাম্মদ আবদুল জব্বার প্রমুখ।
Leave a Reply